শঙ্খিনী বা শাখামুটি সাপ কি বিষধর | বিস্তারিত জেনে নিন

শঙ্খিনী বা শাখামুটি সাপ কি বিষধর অথবা এর কামড়ে কি মানুষ মারা যায়? শাখামুটি সাপ সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জানতে পারবেন। এলাকা ভেদে বিভিন্ন নামে হয়ত ডাকা হয়। তবে জাতীয় নাম শাখামুটি সাপ। ইংরেজিতে ব্যান্ডেড ক্র্যাট (banded krait)। অত্যান্ত শান্ত স্বভাবের এই উপকারী সাপ সম্পর্কে জেনে নিন।

শাখামুটি সাপের পরিচিতি ও বিচরণ এলাকা

শাখামুটি সাপের গায়ে সমানাকারে হলুদ ও কালো ঢোরা কাটা দাগ আছে। তিন থেকে পাঁচ ফুট লম্বা পর্যন্ত হতে পারে। অন্য সাপের মতো পিঠের অংশ গোলাকার নয়, অনেকটা কোণ বের হওয়ার মতো। এবং চামড়া অনেকটা পুরু যা অন্যান্য সাপের মতো নয়। শান্ত এই সাপটি নিশাচর সাপ। দিনের বেলায় সচরাচর দেখা যায়না, দেখতে পেলেও প্রায় নিষ্কৃিয় থাকে। মানুষের নাড়াচাড়া টের পেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সহজে কোন মানুষকে কামড় বা বাইট করতে চায়না। অথচ আবসস্থলের আশেপাশেই জঙ্গলে বা ঝোপঝাড়ে থাকে।

শাখামুটি সাপ কি বিষধর

হ্যাঁ, শাখামুটি সাপ তীব্র বিষধর এবং এর কামড়ে মানুষ মারা যেতে পারে। তবে অত্যান্ত ভালো খবর হলো, বিগত ১৫ বছর পর্যন্ত এমন কোন রিপোর্ট পাওয়া যায়নি যে, এই শাখমুটি সাপের কামড়ে কেউ মারা গেছে। কারন হলো, এই সাপ এতো সহজে কাউকে কামড় দেয়না। আসলে শাখমুটি বা শঙ্খনী সাপ কাউকে কামড়ায় এটাই এখন অনেকে বিশ্বাস করতে চায়না। অর্থাৎ শাখামুটি কাউকে কামড়ায়না। উল্টা যে সকল সাপ মানুষ্কে কামড়ায়, সে তাদেরকে খেয়ে মানুষের উপকার করে।

শাখামুটি সাপের খাদ্য কি

শাখামুটি সাপের প্রধান খাদ্য বিষধর সাপ। এই সাপটি সাধারণত কালাচ প্রজাতির সাপ হলেও, সে কালাচ সাপ খেতে পছন্দ করে। গোখরা, কালাচ ও চন্দ্রবোড়া খেয়ে সে অন্যান্য মানুষের উপকার করে। একটি এলাকায় যদি একটিমাত্র শঙ্খিনী সাপ থাকে, তাহলে ধারনা করা হয় ঐ এলাকায় কোন তীব্র বিষধর কালাচ সাপ থাকার কথানা। এমনকি কিং কোবরার মতো সাপসহ রাসেলস ভাইপার সাপ খেতে খুব পছন্দ করে। এরা সাপ না পেলে অনাহারে থাকে, এবং ক্ষুধার্ত অবস্থায় শুধু সাপকেই খুজে বেড়ায়। তখন সাপ সম্পর্কে না জানা মানুষগুলো শাখামুটিকে দেখতে পেয়ে মেরে ফেলে। অথচ এই সাপটি আমাদের পক্ষে কাজ করছিল। অর্থাৎ সে আরেকটি বিষধর সাপ খুঁজতেছিলো।

শাখামুটি সাপ কি এখন আছে?

শাখামুটি সাপ এখন তেমন দেখা যায়না। কিছু কুসংস্কার ও মানুষের অজ্ঞতার জন্য এই উপকারী সাপটি গ্রামাঞ্চলে আজ বিরল।তাই কালাচ সহ বিভিন্ন সাপের কামড়ে বহু লোকের প্রাণ যাচ্ছে। অথচ বিগত ১৫ বছরে শাখামুটির কামড়ে কোন কারও মৃত্যু হয়নি। যদিও সে তীব্র বিষধর।

শাখামুটি সাপ বিষধর হলে কি হবে? যদি সে না কামড়ায় তাহলে বিষ দিয়ে কি হবে? আসলে তো সে কাউকে কামড়ায়না। মানুষ দেখলে এই সাপ পালিয়ে যায়। চাইলে ধরতেও পারবেন, তবে অবশ্যই একটু সতর্ক থাকতে হয়। অর্থাৎ এই সাপ কাউকে তেড়ে এসে কামড়ায়না বা সহজেই কামড় দেয়না।

কথিত আছে সিলেট অঞ্চলে এই সাপ নিধন হওয়ার কারন, ডাব গাছে বেশী ডাব যেন আসে তাই এই সাপকে মেরে ডাব গাছের গুরায় পুতে রাখতে হবে। এগুলো নিচক কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়। আগেকার মানুষ বেশীরভাগই ছিল অশিক্ষিত, তাই তাদের চিন্তা চেতনা সবকিছুতেই কুসংস্কার বিরাজমান থাকতো।

এখনো যদি শঙ্খিনী সাপকে টিকিয়ে রাখা যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তীব্র বিষধর সাপ থেকে কিছুটা নিরাপদ থাকতে পারবে। আমাদের উচিৎ এই সাপকে বাচিয়ে রাখা, এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারন, শাখামুটি সাপ আমাদের জন্য অনেক উপকারী।

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন