দাঁতের ব্যথার ঔষধের নাম ও খাওয়ার নিয়ম

দাতের ব্যথা বা ডেন্টাল পেইন এর জন্য যারা অসহ্য যন্ত্রনায় আছেন, তাদের জন্য এই লেখাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের ব্যথায় মাথা পর্যন্ত ধরতে পারে, এবং শেষ পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই দাঁতের ব্যথার ঔষধ সম্পর্কে জেনে রাখা খুব দরকার।

দাতে হালকা ঝিনঝিন ব্যথা করলে কোন ঔষধ খাবেন

দাতে হালকা ঝিনঝিন বা শিরশির করলে বুজতে হবে আপনার দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়েছে। তার জন্য যেকোন ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন ডি আছে এমন কিছু ঔষধ খেতে হবে। বলে রাখা ভাল, পানিতে দ্রবণীয় কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায় এগুলো রোজ একটা করে ১ মাস খেলে ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা। সাথে যদি নরমাল ব্যথা থাকে, তাহলে Marven অথবা Marve SR ট্যাবলেট ১ টি করে দিনে ১-২ বার খেতে পারেন। মারভেন এসআর দিনে ১ বার খেলেই সেরে যাওয়ার কথা।

সাথে ক্যালসিয়াম+ডি পানিতে গুলে খাওয়ার ট্যাবলেট রোজ ১ টা একমাস খেতে হবে। এরসাথে ভিটামিন সি ২৫০ মিগ্রা রোজ ১ টা করে ২ বার ১০ দিন খেতে পারেন। সেনসোডিন অথবা মেডিপ্লাস টুথপেষ্ট দিয়ে দুবার ব্রাশ করতে পারেন। দাঁতের ঝিনঝিন ব্যথা ও শিরশিরানি কমে যাবে।

এসব ঔষধ খাওয়ার সময় অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে, যেন এসিডিটির ঔষধ সাথে থাকে। কারন এগুলো এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। আর যেকোন ব্যথার ঔষধ আহারের পর খেতে হয়, এটাও মনে রাখতে হবে। অর্থাৎ ডাক্তার যেভাবে খেতে বলবে, ঠিক এভাবেই খাবেন। গ্যাস্ট্রিকসহ অন্ত্রনালীর ক্ষতি হতে পারে।

দাঁতের তীব্র ব্যথা হলে কোন ঔষধ খাবেন

দাঁতে ইনফেকশন থেকে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এজন্য একজন বিডিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে, পুরো ৭ দিন পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে নিতে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়। তবে যে দাঁতে ইনফেকশন হয়েছে, তা ফিলিং না করতে পারলে, ফেলে দেয়াই উচিত। যদি উপস্থিত সময়ে কোন ডেন্টিস্ট পাওয়া না যায়, তাহলে আপাদত প্রথমিক চিকিৎসা হিসাবে নিচের ঔষধগুলো খেয়ে ব্যথা কমাতে হবে।

দাঁতের তীব্র ব্যথায় ইটোরীকক্সিব জাতীয় ঔষধ খেতে হতে পারে। ৯০-১২০ মিগ্রা টেবলেট দিনে একবার। তবে অবশ্যই ১৬ বছরের বেশী বয়স হলেই খাওয়া যাবে। তার কম হলে আইবুপ্রোফেন ২০০-৪০০ মিগ্রা টেবলেট দিনে দুইবার খেতে পারেন।

দাঁতের গোড়া ফুলে গেলে কি করতে হবে

দাঁতের মাড়িতে যদি ইনফেকশন হয়, তাহলে দাঁতের গোড়া ফুলে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা হবে। এক্ষেত্রে বেশী দেরী না করে একজন ডেন্টিস্ট এর কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে এন্টিবায়োটিক সহ ৭ দিনের একটা চিকিৎসা নিতেই হবে। দাঁতের এই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে সাধারণ কোন ঔষধের দোকান থেকে সমস্যা বলে ঔষধ কিনে খাবেননা।

বাচ্চাদের দাঁত ব্যথার ঔষধ

বাচ্চাদের দাঁত ব্যথার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ঔষধ হিসাবে আইবুপ্রোফেন গ্রুপের ফ্লামেক্স সিরাপ খাওয়াতে পারেন। অবশ্যই ভরা পেটে খাওয়াবেন। ১ চামচ করে ২ বার খাওয়াতে হবে। এতেও যদি না কমে তাহলে ভালো ডেন্টিস্টের সাথে পরামর্শ নিয়ে মক্সাসিল জাতীয় ঔষধও দেয়া যেতে পারে।

বাচ্চাদের দাঁতের ব্যথার কারন, দুধ দাতে পোকার আক্রমণ। তাই তাদেরকে ব্রাশ করার অভ্যাস করতে শিখিয়ে নিন। দাঁত গর্ত হয়ে গেলে ফিলিং করে নিতে পারেন। তাহলে পরবর্তীতে বাচ্চাদের দাঁতে আর ব্যথা হবেনা।

দাঁতের ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

দাঁতের ব্যথায় হাতের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার কোন ঔষধ না পেলে যা করবেন-

দুইটি লবঙ্গকে সিলপাটায় থেতলে নিয়ে এককাপ পানিতে দিবেন, অতঃপর তা উচ্চতাপে গরম করে নিবেন, সামান্য হলুদের গুড়া মিশিয়ে দাতের যে পাশে ব্যথা, ঐ পাশে মুখের ভিতরে কিছুক্ষণ রাখার চেষ্টা করবেন। পানিটা এতোটা গরম রাখবেননা, যে পানি মুখে নিলে আপনার সমস্যা হতে পারে।

এছড়াও আইচ এর ফুল মুখে নিয়ে যে পাশে ব্যথা, ঐপাশের দাত দিয়ে চিবাতে পারেন। কিছুক্ষণ চিবালে দাঁতের ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যাবে। তবে ডাক্তার কতৃক চিকিৎসা না নিলে কিছুক্ষণ পর থেকে আবার ব্যথা শুরু হবে।

দাতের যত্ন না নিলে যেসব সমস্যা হয়

দাঁতের যত্ন না নিলে যেসব সমস্যা হয়, তার মধ্যে একটা হলো, মাঝে মাঝে দাতে ব্যথা হওয়া, মুখের দুর্গন্ধ, দাতে ইনফেকশন, অকালে দাঁত পড়ে যাওয়া ইত্যাদি। দাঁত মানুষের সৌন্দর্যের একটি বৈশিষ্ট্য, দাত না থাকলে বা দাঁতে কোন সমস্যা থাকলে যেমন সৌন্দর্য নষ্ট হয়, তেমনি কোন কিছু খেতেও খুব অসুবিধা হয়।

দাঁতের যত্ন কিভাবে নিতে হবে

দাতের যত্ন নেয়া খুব জরুরী, প্রতিদিন ২ মিনিট করে সকালে ও রাতে শোবার আগে অর্থাৎ দিনে দুবার ব্রাশ করা উচিৎ। প্রতিবার খাবার পর বেসিনে ভাল করে গার্গল করে কুলি করা, এবং প্লাক করে দাতকে পরিস্কার রাখতে হবে। দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও সি জাতীয় খাবার অথবা সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে।

দাঁতের ব্যথায় অবহেলা করবেননা, কারন দিনের বেলায় যখন তখন ডাক্তার পেলেও, রাত বেশী হলে ডাক্তার নাও পেতে পারেন। দাতের ব্যথা যদি তীব্র আকার ধারন করে, তখন অস্থির হওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকেনা। তাই প্রথম দিকেই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ। কোন বিষয়ে জানতে চাইলে কমেন্ট করবেন।

আরো পড়ুন – দুর্বলতার হোমিও ঔষধের নাম কি

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন