ডেক্সল্যানসোপ্রাজল কিসের ঔষধ|Dexlansoprazole 30/60mg

ডেক্সল্যান্ড, কেনালিয়া, ল্যানসো- ডি, ডিডিআর, ডেলানিক্স, ডেলজো, ডেক্সাল্যাক্স, ডেক্সিলেন্ড ৩০ এগুলো একই ঔষধ। আসুন জেনে নিই ডেক্সল্যানসোপ্রাজল কিসের ঔষধ|Dexlansoprazole 30/60mg

ডেক্সিল্যান্ড কিভাবে কাজ করে

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল এন্টি সিক্রেটোরি শ্রেণির অর্ন্তভুক্ত একটি যৌগ, প্রতিস্থাপিত বেনজিমিডাজল যা গ্যাষ্ট্রিক প্যারাইটাল কোষে H+/K+ ATPase কে বাধা প্রদান করে গ্যাষ্ট্রিক এসিড নিঃসরণ প্রতিরোধ করে। এটি এসিড উৎপাদনের চুড়ান্ত ধাপ বন্ধ করে। ডেক্সল্যানসোপ্রাজল ডুয়েল ডিলেইড রিলিজ ক্যাপসুল হিসাবে সেবনের জন্য সরবরাহ করা হয়। ডেক্সল্যানসোপ্রাজল ক্যাপসুলে রয়েছে দু’ধরণের এন্টেরিক কোটেড গ্রানুয়েলস্ যাদের ভিন্ন ভিন্ন pH এ নিঃসরণ ঘটে।

ল্যানসো-ডি এর কাজ কি

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প নিরোধক (পিপিআই), যা ১২ বছর এবং এর চেয়ে বেশি বয়সের রোগীদের জন্য নিম্নবর্ণিত কারণে নির্দেশিত হয়।

  • সকল গ্রেডের ইরোসিভ ইসোফেগাইটিসের প্রশমনে।
  • ইরোসিভ ইসোফেগাইটিসের মেইনটেন্যান্স ডোজ হিসাবে এবং বুক জ্বালাপোড়া (অম্বল) নিরাময়ের জন্য।
  • সিমটোমেটিক নন-ইরোসিভ গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স এর উপসর্গ প্রশমনে।

Dexlansoprazole 30/60mg খাওয়ার নিয়ম

  • ডেক্সল্যানসোপ্রাজল খাবারের আগে ও পরে সেবন করা যায়।
  • মিড ডোজ: নির্দিষ্ট কোন মাত্রা সেবনে বিলম্বিত হলে দ্রুত সমপরিমাণ মাত্রা সেবন করতে হবে। যদি পরবর্তী মাত্রা গ্রহণের সময় হয়ে আসে তাহলে নির্দেশিত মাত্রার ডেক্সল্যানসোপ্রাজল-ই গ্রহণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দ্বিগুন মাত্রা একত্রে সেবন করা যাবে না।
  • ডেক্সল্যানসোপ্রাজল সম্পূর্ণ গিলে খেতে হবে, চিবানো যাবে না।
  • যেসব রোগীদের গিলে খেতে অসুবিধা, তারা ক্যাপসুলটি নিম্ন উপায়ে সেবন করতে পারেন:
  • ক্যাপসুলটি খুলুন।
  • গ্র্যানুয়েলগুলো আপেল সসে মিশিয়ে ফেলুন।
  • শীঘ্রই গিলে ফেলুন। গ্র্যানুয়েলগুলো চিবানো যাবে না। গ্র্যানুয়েলস্ সহ আপেল সস পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দেওয়া যাবে না।

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল এর প্রতিনির্দেশনা

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল এর কোন উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত
অন্যান্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া-

  • অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল: ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের সাথে একই সময়ে সেবন করলে কিছু অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধের (যেমন: রিলপিভিরিন, এটাজানভির এবং নেলফিনাভির) এক্সপোজার কমিয়ে দেয়। ফলে তাদের অ্যান্টিভাইরাল প্রভাব হ্রাস পেতে পারে এবং ঔষধের কার্যকারিতা প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের সাথে একই সময়ে সেবন করলে অন্যান্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধের (যেমন: সাকুইনাভির) এক্সপোজার বৃদ্ধি পায়, ফলে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধের বিষক্রিয়া বৃদ্ধি করতে পারে ।
  • ওয়ারফেরিন: একই সময়ে পিপিআই এবং ওয়ারফেরিন সেবন করলে রোগীর আইএনআর এবং প্রোথ্রোমবিন টাইম বৃদ্ধি পায়। আইএনআর এবং প্রোথ্রোমবিন টাইম বৃদ্ধির কারণে অস্বাভাবিক রক্তপাত, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
  • মিথোট্রেক্সেট: মিথোট্রেক্সেটের (সাধারণত উচ্চমাত্রায়) সাথে একই সময়ে পিপিআই সেবন করলে সিরামে মিথোট্রেক্সেট এবং/অথবা এর মেটাবোলাইট হাইড্রোক্সিমিথোট্রেক্সেটের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সিরামে এর উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করতে পারে, যার কারণে মিথোট্রেক্সেটের বিষক্রিয়া হতে পারে।
  • ডিগোক্সিন: ডিগোক্সিনের এক্সপোজার বৃদ্ধি করতে পারে।
  • শোষণের জন্য গ্যাষ্ট্রিক পিএইচ এর উপর নির্ভরশীল ঔষধ (যেমন: আইরন সল্ট, আরলোটিনিব, ডাসাটিনিব, নিলোটিনিব, মাইকোফেনোলেট ফিটিল, কিটোকোনাজল/ইট্রাকোনাজল): ইনট্রাগ্যাষ্ট্রিক এসিডিটির হ্রাসের ওপর প্রভাব থাকার কারণে ডেক্সল্যানসোপ্রাজল অন্যান্য ঔষধের শোষণ হ্রাস করতে পারে।
  • ট্যাকরোলিমাস: ট্যাকরোলিমাসের এক্সপোজার বৃদ্ধি করতে পারে বিশেষ করে অঙ্গপ্রতিস্থাপন করা রোগীদের ক্ষেত্রে।
  • নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয়ে বাধা প্রদান করে।
  • CYP2C19 অথবা CYP3A4 ইনডিউসার (রিফামপিন) ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের এক্সপোজার হ্রাস করে।
  • CYP2C19 অথবা CYP3A4 ইনহিবিটরস্ (ভরিকোনাজল) ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের এক্সপোজার বৃদ্ধি করে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার– ১২ বছরের কম বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের ব্যবহার নিরাপদ এবং কার্যকারী কিনা জানা যায়নি।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে ডেক্সল্যানসোপ্রাজল এর ব্যবহার

গর্ভাবস্থায় ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের ব্যবহার সম্পর্কিত যথেষ্ট তথ্য নেই। স্তন্যদানকারী মায়ের দুধে ডেক্সল্যানসোপ্রাজলের উপস্থিতি, দুগ্ধপোষ্য বাচ্চার ওপর এর প্রভাব এবং দুধ উৎপাদনের উপর এর প্রভাব সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই।

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া

মাথা ব্যথা, ডায়রিয়া, তলপেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা, শ্বাসতন্ত্রের উপরিভাগে প্রদাহ, বমি, পেটফাপা, ন্যাসোফেরিনজাইটিস এবং ওরোফেরিনজিয়াল ব্যথা ।
কখনো কখনো সায়ানোকোবালামিনের স্বল্পতা (৩ বছরের বেশি ব্যবহার করলে) এবং হাইপোম্যাগনেসেমিয়া সংঘটিত হয়।

ডেক্সিল্যান্ড সেবনে সতর্কতা ও পূর্ব-সতর্কতা

গ্যাষ্ট্রিক ক্যান্সার রোগ, অ্যাকুইট ইন্টারস্টিসিয়াল নেফ্রাইটিস, ক্লসট্রিডিয়াম ডিফিসিলি জনিত ডায়রিয়া, হাড় ভাঙ্গা, কিউটিনিয়াস এবং সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিম্যাটোসাস এবং ফানডিক গ্যান্ড পলিপস্ ।

ডেক্সিল্যান্ড অতিমাত্রায় সেবন

ডেক্সল্যানসোপ্রাজল অতিমাত্রা ব্যবহারের কোন উল্লেখযোগ্য তথ্য নেই। ডেক্সল্যানসোপ্রাজল ১২০ মি.গ্রা. এবং ৩০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত ব্যবহারে কোন মারাত্মক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

আরো পড়ুন- টারবিনাফিন ২৫০ কিসের ঔষধ ও খাওয়ার নিয়ম। Terbinafine

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন