ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়া যাবে কোনটা খাওয়া যাবেনা

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাওয়ার পরিনতি খুব ভয়াবহ, কখনো কখনো মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আজকে সকল পাঠকের জন্য একটি গুরুতেপুর্ণ লেখার চেষ্টা করছি ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়া যাবে কোনটা খাওয়া যাবেনা। আশা করি এই লেখটি আপনাকে ঔষধ সম্পর্কে আরো সচেতন করে তুলবে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়া যাবে

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যেসব ঔষধ খাওয়া যাবে তার মধ্যে NSAID এর প্রায় সবগুলি ট্যাবলেট যেমন- প্যারাসিটামল, এসিক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন সহ ব্যথা দূর করার আরো অন্যসব কয়েকটি ঔষধ সাময়িক সময়ের জন্য খাওয়া যাবে। তবে এগুলো কখনই খালি পেটে ও দীর্ঘদিন খাওয়া যায়না। শুধু প্যারাসিটামলের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

এন্টি হিস্টামিন জাতীয় ঔষধের মধ্যে হিস্টাসিন, ফেনাডিন, রুপা, এলসেট, এলাট্রল, ইবাটিন সহ এই জাতীয় ঔষধ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাময়িক সময়ের জন্য খেতে পারবেন। তবে এসব খাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেতে হবে। তবে উচিৎ হবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া। এসব এন্টি হিস্টামিন খাওয়ার নিয়ম জেনে রাখা ভালো, তা হলো- হিস্টাসিন ব্যাতিত বাকি ঔষধ প্রতিদিন ১ বার অর্থাৎ প্রতি রাতে ১ বার খালি পেটে খাওয়া উত্তম।

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির ঔষধ যদি খাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে অমিপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল ও ডেক্সিল্যান্সোপ্রাজল জাতীয় ঔষধ খালি পেটে খাবেন। ইসোমিপ্রাজল, র‍্যাবিপ্রাজল ও সিরাপ জাতীয় ঔষধ ভরা পেটে খেতে পারবেন বা কোনও ঔষধ ভরা পেটেই খেতে হয়। এগুলো দৈনিক ১ বারই খাওয়া উচিৎ, কোন ডাক্তার যদি ২ বার খেতে বলেন, তাহলেই খাওয়া যাবে। এবং সর্বোচ্চ ১-২ মাসএর বেশী খাওয়া উচিৎ না। কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যদি ভিন্নভাবে প্রেস্ক্রিপশন করে থাকেন তাহলে ভিন্ন কথা।

ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানায় খাবার স্যালাইন খেতে হলে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয়না, কারন এগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা। তবে মেট্রিল বা সিপ্রোসিন জাতীয় ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কোন ঔষধ খাওয়া যাবেনা

কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবেনা। শুধু তাই নয়, ডাক্তারকে প্রেশক্রিপশন লেখার পর জিজ্ঞাসা করা উচিৎ, স্যার এখানে যদি কোন এন্টিবায়োটিক থাকে, তাহলে আমাকে একটু জানিয়ে দিয়েন, কারন এগুলো না জানলে এবং এর কোর্স কমপ্লিট করতে না পারলে হয়ত বড় কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পাড়ে। অথবা ঔষধ কেনার পর প্যাকেটে এন্টিবায়োটিক লেখা আছে কিনা দেখে নিতে হবে।

জানার জন্য কয়েকটি কমন এন্টিবায়োটিকের নাম লিখে দিচ্ছি- এমোক্সিসিলিন দিনে ৩ বার ৭ দিনের কোর্স, সিপ্রোফ্লক্সাসিলিন দিনে ২ বার ৭ দিনের কোর্স, লিভোফ্লক্সাসিলিন দিনে ১ বার ৭-১০ দিনের কোর্স, এ্যাজিথ্রোমাইসিন দিনে ১ বার ৩-৫ দিনের কোর্স, মক্সিফ্লক্সাসিলিন দিনে ১ বার ৫-৭ দিনের কোর্স, সেফিউরক্সিম দিনে ২ বার ৭-১০ দিনের কোর্স, সেফিক্সিম দিনে ২ বার ৭ দিনের কোর্স।

কোন প্রকার ডায়বেটিসের ঔষধ, উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ, হার্টের ঔষধ, দীর্ঘসময় মিলনের ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেননা। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী কোন প্রতিবেশীর সেইম রোগ হয়েছিলো তাই আপনিও ঐ ব্যাক্তির জন্য লিখিত ঔষধ খেতে পারবেননা। গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ঔষধ খাওয়া যাবেনা। এমনকি ঐ সময় কোন অসুখ হলে, ডাক্তারকে আগে গর্ভাবস্থার কথা জানাতে হবে। অন্যথায় বিপদ হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোন ঔষধ খাওয়াতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। পাশের বাড়ির বাচ্চার একই রোগের ঔষধ আপনার শিশুকে খাওয়াতে পারবেননা। এভাবে কোন বৃদ্ধকে যেকোন ঔষধ খাওয়াতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারন তাদের শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে ডাক্তাররা বিশেষ ডোজ ও কোর্স নির্ধারন করে থাকেন। আশাকরি বুজতে পেরেছেন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়া যাবে কোনটা খাওয়া যাবেনা। আরো কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট এ প্রশ্ন করবেন।

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন