ঔষধ খাওয়ার নিয়ম গুলো জেনে নিন

ঔষধ খাওয়ার নিয়ম না জানায় প্রতিবছর হাজার হাজার রোগী মারা যায়, শুধু তাই নয় অনিয়মিত ঔষধ সেবনের কারণে রোগ থেকে মুক্তি না পেয়ে উল্টো আরো অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু চিকিৎসাই নয় ঔষধ খাওয়ার নিয়মটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নিই কয়েকটি রোগের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

এন্টিবায়োটিক ঔষধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই খাবেন না। এবং ঔষধ লেখার সময় ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করবেন এটি এন্টিবায়োটিক কিনা। বা এখানে কোন এন্টিবায়োটিক আছে কিনা, যদি কোন এন্টিবায়োটিক থাকে অবশ্যই তার কোর্স কমপ্লিট করবেন। কোন কোন এন্টিবায়োটিক। ৭দিন বা ১৪ দিনের কোর্স হতে পারে, এসব ঔষধ খুব গুরুত্ব সহকারে সেবন করবেন, কারণ এন্টিবায়োটিক যেমন জীবন বাঁচাতে পারে- তেমন তার অপব্যবহারের কারণে জীবন বিপন্ন করতে পারে।

এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার আগে না পরে

এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাওয়ার আগে নাকি পরে খাবেন, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকেন। মূলত এন্টিবায়োটিক খাবার আগে বা পরে এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, এন্টিবায়োটিক এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এন্টিবায়োটিক সময় নির্ধারণ করে খেতে হয়, যে ওষুধটি দিনে তিনবার লেখা, সেটি সকালে, দুপুরে এবং রাতে টাইম মেইনটেইন করে অর্থাৎ ৮ ঘণ্টা পরপর খেতে হবে। যে ওষুধ দিনে দুবার লেখা সেটা সকালে এবং রাতে ১২ ঘন্টা পর পর সময় নির্ধারণ করে খেতে হবে। যে এন্টিবায়োটিক দিনে চারবার লেখা সেটি নির্দিষ্ট টাইমে ছয় ঘন্টা পর পর খেতে হবে। এভাবে যেটি দিনে একবার লেখা সেটি প্রতিদিন অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায় একই টাইমে একবার খেতে হবে। সর্বোচ্চ এক ঘন্টা কম বেশি হতে পারে, কিন্তু কখনোই এর বেশী ব্যবধান যেন না থাকে। এটা লক্ষ্য রাখতে হবে।

শিশুদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

শিশুদের কৃমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম খুব গুরুত্বের সাথে জানতে হবে। সাধারণত শিশুর বয়স ১৮ মাস হওয়ার আগে কৃমির ঔষধ খাওয়ানোর তেমন প্রয়োজন হয় না। যদিও বিশেষ কারনে কখনো কৃমির ওষুধ খাওয়াতেই হয়, তাহলে ডিলেন্টিন সিরাপ অথবা মেলফিন সিরাপ ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে শুধুমাত্র একবার আধা চামচ ওষুধ খাওয়াতে পারেন। দুই বছর থেকে পাঁচ বছর বয়সের বাচ্চাদের ডিলেন্টিন সিরাপ অথবা মেলফিন সিরাপ এক চামচ করে এক সপ্তাহ অন্তর মোট ২ চামচ কৃমির ওষুধ খাওয়াতে পারবেন।

প্রেসারের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

উচ্চ রক্তচাপ বা প্রেসারের ওষুধ খাওয়ার নিয়ম ডাক্তাররা লিখে দেন, এবং ফার্মেসিতেও ওষুধের গায়ে লিখে দেয়। কিন্তু আসল বিষয় যেটা তা- অনেক রোগীরাই জানেন না। দেখবেন প্রেসক্রিপশনের ডান পাশে চলবে এই লেখাটা থাকে, চলবে অর্থাৎ আপনি যতদিন বেঁচে থাকেন ততদিন এই ওষুধ আপনাকে খেতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান, আপনি যদি প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, অবশ্যই আপনাকে প্রেসারের ওষুধ নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। কোন কারনে যদি ঔষধ খাওয়ার পর আপনার অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়, তাহলে ঔষধ বন্ধ না করে প্রথমে আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, এই ওষুধ আপনি খাবেন নাকি নাকি বন্ধ করবেন সেটা ডাক্তারকে জানাতে হবে। ডাক্তার যদি বলেন আপনি সেটা বন্ধ করে দিন- তাহলে বন্ধ করবেন। অন্যথায় আপনি আপনার ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে। কারণ প্রেসারের ওষুধ আর বন্ধ করা যাবে না।

গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার নিয়ম সাধারণত সবাই জানেন, কারণ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ এখন মুড়ি চানাচুর এর মত হয়ে গেছে। সবাই জানে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কিভাবে খেতে হবে অর্থাৎ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খালি পেটে খেতে হয়। তবে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কতদিন খেতে হয় সেটা অনেকেই জানেন না। গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ সর্বোচ্চ দুমাস পর্যন্ত খাওয়া যাবে, দুই মাসের ভিতরে যদি গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে হবে। এবং উনার পরামর্শ অনুযায়ী আপনার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

ফলিসন ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

রক্তস্বল্পতায় বা খাবারে অরুচির জন্য ডাক্তাররা অনেক সময় ফলিসন ওষুধ দিয়ে থাকেন. ফলিসন ওষুধ খাওয়ার নিয়ম ডাক্তাররাই লিখে দেন, তারপরও আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি ফলিসন ঔষধ সাধারণত রাত্রে একবার খেতে হয়। অথবা সকালে একটি রাত্রে একটি এভাবে খেতে হয়। একটানা এক থেকে দু মাস পর্যন্ত খাওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে

বমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

বমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম সাধারণত খালি পেটে, এর মধ্যে এনসেট জাতীয় ট্যাবলেট একটি করে তিনবার খাওয়া যায়, ডাইক্লিজ জাতীয় ঔষধ একটি করে দুইবার এবং প্যালোক্সি জাতীয় ঔষধ প্রতিদিন একবার খেতে হয়। সকল বমির ঔষধই খালি পেটে খেতে হয়।

এলার্জির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম 

এলার্জির ঔষধ খালি পেটে খাওয়া ভালো। হিস্টাসিন ব্যাতিত অন্যান্য সাধারণত এলার্জির ঔষধ দিনে একবার খেতে হয়। এন্টিহিস্টামিন ওষুধের সুনির্ধারিত কোন ডোজ নেই। অর্থাৎ ডাক্তার যতদিন খেতে বলবেন ততদিনই খেতে হবে। তবে জেনে রাখা ভালো যে, এন্টি-হিস্টামিন ওষুধ সেবনের ফলে একটু ঘুম ঘুম হতে পারে। তাই এলার্জির ঔষধ খেয়ে গাড়ি চালানো বা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

ঘুমের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ঘুমের ঔষধ রাত্রে কোন কিছু খাবারের সাথে সাথেই খেয়ে নিতে হয়। সাধারণত ক্লোনাজিপাম জাতীয় ঔষধ ঘুমের জন্য আদর্শ এবং একটি নিরাপদ।ঘুমের ঔষধ তখনই খাবেন, যখন ডিপ্রেশনের জন্য আপনার ঘুম আসছেনা, একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ক্লোনাজিপাম জাতীয় ঔষধ, প্রতিদিন রাতে একটি ট্যাবলেট খেতে পারবেন। সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ দিন আপনি যদি নিয়মিত খেয়ে যান তাহলে অনিদ্রা দূর হয়ে স্বাভাবিক ঘুম চলে আসতে পারে।

ঘুমের ঔষধ খাওয়ার কতক্ষণ পর ঘুম আসে

ক্লোনাজিপাম জাতীয় ঔষধ খাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ঘুম চলে আসার কথা। তারপরও যদি ঘুম না হয় বা কাঙ্খিত সময় পর্যন্ত ঘুম না হয়, তাহলে এর মাত্রা বাড়াতে হবে। এভাবেও যদি ঔষধে ঘুম না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। ডাক্তারকে আপনার কথা জানাতে হবে, ডাক্তার আপনার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে অন্য কোন ঔষধ লিখে দিবেন।

ডায়াবেটিস ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ডায়াবেটিসের ঔষধ খাওয়ার নিয়ম অবশ্যই আপনি ফার্মেসি থেকে জেনে নিতে হবে, কারণ এখানে বহু ধরনের ওষুধ লিখে থাকে। তারপরও কিছু ওষুধের নাম সহ নিয়ম লিখে দিচ্ছি। মেটফরমিন জাতীয় ঔষধ দিনে দুবার, গ্লিক্লাজাইড জাতীয় ঔষধ খাওয়ার নিয়ম সকালে খালি পেটে একবার। এছাড়া অন্যান্য ঔষধ খাওয়ার নিয়ম অবশ্যই ফার্মেসি থেকে ভালো করে জেনে নিতে হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় না বললেই নয়, ডায়াবেটিসের ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই বন্ধ করা যাবে না।

ব্যাথার ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ব্যথার ঔষধ সব সময় ভরা পেটে খেতে হয়, বিশেষ করে ডাইক্লোফেনাক, কেটোরোলাক ও এসিক্লোফেনাক ঔষধ খেতে হয় ১টি করে ট্যাবলেট দিনে দুইবার। তবে ইটোরিকক্সিব এবং কেটোরোলাক ১৬ বছরের কম বয়সী কাউকে খাওয়ানো যাবে না।

ক্যালসিয়াম ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

ক্যালসিয়াম ঔষধ খাওয়ার নিয়ম প্রতিদিন সকালে অথবা দুপুরে একটি করে ট্যাবলেট। এক থেকে দুমাস পর্যন্ত খাওয়া যায় তবে রাতে ক্যালসিয়াম খাওয়া উচিত নয়। কারণ ক্যালসিয়াম খেয়ে কিছু হাঁটা চলা না করলে অর্থাৎ ক্যালসিয়াম খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে, পরদিন সকালে প্রস্রাবের সাথে তা নির্গত হয়ে যায়।

রোজায় ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

রোজায় ঔষধ খাওয়ার নিয়মে একটু তারতম্য আছে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই খেতে হবে, কিন্তু কিছু কিছু ঔষধ আছে যেগুলো দৈনিক তিনবার অথবা চারবার খেতে হয় এগুলোর বিকল্প কোন ঔষধ বেছে নিতে হবে। যেমন অনেক সময় এন্টিবায়োটিক এর ক্ষেত্রে এমনটা হয়ে থাকে, এন্টিবায়োটিক যদি চার বার অথবা তিনবার খেতে হয় তাহলে তো অবশ্যই দিনের অংশে আপনার এই ওষুধটা খেতে হবে। তাই ডাক্তার কে বলবেন আপনি পরদিন রোজা রাখবেন, তাই দুবারের বা একবারের কোন এন্টিবায়োটিক দেয়ার জন্য। তাহলেই দিনের অংশে আপনাকে কোন ঔষধ খেতে হবে না। যদি কোন বিকল্প না থাকে তাহলে আপনি দিনের অংশে ঔষধ খেতে হবে। অর্থাৎ আপনি সুস্থ হয়ে গেলে এই রোজাগুলো পরবর্তীতে কাজা আদায় করে নিবেন।

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন