পারকিনিল ট্যাবলেট কিসের ঔষধ

পারকিনিল ৫ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট এর মুল ঔষধের নাম প্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড। পারকিনিল নামে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বাজারজাত করছে। জেনে নিই পারকিনিল ট্যাবলেট কিসের ঔষধ।

পারকিনিল কেন খায়

“পারকিনিল” (প্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড) পারকিনসন বিরোধী ওষুধ যার আপেক্ষিকভাবে কম বিষক্রিয়া রয়েছে। ইহা একটি সিনথেটিক টারসিয়ারি এমাইন। প্রোসাইক্লিডিন এন্টিকোলিনার্জিক ওষুধ হিসেবে পারকিনসন রোগ এর লক্ষণ নিরাময়ে কাজ করে।

প্রোসাইক্লিডিন সরাসরি মসৃন পেশীর উপর কাজ করে পেশীর সংকোচনজনিত ব্যথা কমায়। ইহা পরিপাক নালী থেকে বিশোষিত হয় এবং টিস্যু থেকে দ্রুত নিঃশেষিত হয়। ইন্ট্রাভেনাস ইঞ্জেকশন দেয়ার ৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে এবং এই কার্যকারিতা ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে।

পারকিনিল কি কাজ করে

পারকিনিল পারকিনসন রোগের চিকিৎসায় সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ইহা প্রধানত ইডিওপ্যাথিক (প্যারালাইসিস এজিট্যান্টস), পোস্ট এনসেফালাইটিক এবং আরটারিওসক্লেরোটিক পারকিনসনিজম রোগের লক্ষণমূলক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

পারকিনিল- নিউরোলেপটিক ওষুধ যেমন ফেনোথায়াজিন জাতীয় ওষুধের প্রভাবজনিত এক্সট্রাপিরামিডাল লক্ষণ সমূহের অসুবিধা যেমন স্যুডো- পারকিনসনিজম, তীব্র ডিসটোনিক প্রতিক্রিয়া এবং একাথিসিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

পারকিনিল খাওয়ার নিয়ম

পারকিনিল ট্যাবলেট একটি মুখে খাওয়ার উপযোগী ওষুধ যা খাবার পরে গ্রহণ করা উচিত পারকিনসনিজম; প্রথমে ২.৫ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার। পরবর্তীতে বাড়িয়ে ৫ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার এবং মাঝে মাঝে ৫ মি.গ্রা. শোবার সময় যাত্রা সহন ক্ষমতা অনুসারে বাড়ানো যেতে পারে। সর্বোচ্চ ২০-৩০ মি.গ্রা. দিনে ৩-৪ বার বিভক্ত মাত্রায় খাওয়া যেতে পারে।

ওষুধের প্রভাবজনিত এক্সট্রপিরামিডাল লক্ষণ:

প্রথমে ২.৫ মি.গ্রা . দিনে ৩ বার। মাত্রা সহনক্ষমতা এবং প্রয়োজন অনুসারে দিনে ২.৫ মি.গ্রা . করে বাড়ানো যেতে পারে।

ইচ্ছামাসকুলার এবং ইউভেনাস ইঞ্জেকশন:

৫-১০ মি.গ্রা . প্রয়োজনে ২০ মিনিট পরে মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। দিনে সর্বোচ্চ মাত্রা ২০. মিগ্রা।
শিশুদের ক্ষেত্রে শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

শুধুমাত্র ক্ষতির তুলনায় লাভ বিবেচনা করে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনুপযোগিতা শিশু এবং বয়স্কদের সাবধানতার সাথে দিতে হবে। যে সমস্ত রোগীর ডায়রিয়া, কার্ডিওভাসকুলার অসুস্থতা, গ্লুকোমা, ইউরিনারী রিটেনসন, লিভার এবং বৃদ্ধের অসুস্থতা আছে তাদের ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে দিতে হবে। টারডিত ডিসকাইনেসিয়া থাকলে প্রোসাইক্লিডিন ব্যবহার করা উচিত নয়।

পারকিনিল এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ওষুধের স্বাভাবিক মাত্রায় মুখের শুদ্ধভাব দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে চোখের তারার প্রসারণ, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, মাথা ঝিম ঝিম করা, ডিসওরিয়েন্টেসন, বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে অস্বস্তি, এলার্জিভাব, পেশীর দূর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।

ওষুধের মাত্রা বেশি হলে মাথা ঝিম ঝিম করা, দৃষ্টি বিভ্রম এবং মানসিক বিভ্রম দেখা দিতে পারে। ওষুধের মাত্রা কমিয়ে এবং খাবার পর ওষুধ খেয়ে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মাত্রা কমানো যেতে পারে।

অন্য ওষুধের সাথে পারকিনিল এর প্রতিক্রিয়া

যে সকল পদার্থে এন্টিকোলিনার্জিক এমান্টাডিন আছে তারা গ্রোসাইক্লিডিন এর এন্টিকোলিনার্জিক কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিতে পারে। কিটোকোনাজল ও গ্রোসাইক্লিডিন একসাথে ব্যবহার করলে কিটোকোনাজল এর শোষণ কমে যেতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে পারকিনিল খাওয়া যাবে কিনা

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে শুধুমাত্র মা ও শিশুর ক্ষতির তুলনায় লাভ বিবেচনা করে প্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহার করা যেতে পারে।

পারকিনিল এর মতো আরও কিছু প্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড ঔষধের নাম- Cyclid-5 mg, Extranil-5 mg, Kdrin-5 mg, Rocy-5 mg, ইত্যাদি।

আরও পড়ুন – ৩০ মিনিট টাইমিং ট্যাবলেট ডেপুক্সেটিন খাওয়ার নিয়ম

Leave a Comment

হারবাল ঔষধের জন্য ক্লিক করুন